প্রকাশিত: Wed, Mar 6, 2024 10:26 AM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 2:02 PM

[১]২৪ শতাংশ বাসের ফিটনেস নেই: টিআইবি [২]বছরে ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকার চাঁদাবাজি

সালেহ্ বিপ্লব: [৩] ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের  (টিআইবি) গবেষণায় আরও জানা গেছে, সারাদেশে চলাচলকারী ১৮.৯ শতাংশ বাসের নিবন্ধন নেই। ১৮.৫ শতাংশ বাসের ট্যাক্স টোকেন এবং ২২ শতাংশ বাসের রুট পারমিট নেই। 

[৪] সড়কে বাণিজ্যিকভাবে চলাচলকারী প্রত্যেকটি বাসের জন্য নিবন্ধন ও তিন ধরনের সনদ বাধ্যতামূলক।

[৫] জরিপে ৪০.৯ শতাংশ বাস শ্রমিক জানান, তাদের সংশ্লিষ্ট কোম্পানির এক বা একাধিক বাসের নিবন্ধনসহ কোনো না কোনো সনদের ঘাটতি আছে। 

[৬] গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাস শ্রমিকদের প্রতিদিন প্রায় ১১ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। আর তাদের মধ্যে ৮২ শতাংশের কোনো নিয়োগপত্র নেই, ৬৯.৩  শতাংশের নেই কোনো নির্ধারিত মজুরি।

[৭] জরিপে অংশগ্রহণকারী ৭৫.৮ শতাংশ যাত্রী, ৪৮ শতাংশ শ্রমিক এবং ৫১.৮ শতাংশ মালিক বাসের মাত্রাতিরিক্ত গতিকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

[৮] ২২.২ শতাংশ বাসকর্মী ও শ্রমিকদের মতে, মদ্যপান বা নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করে চালক গাড়ি চালান। কন্ডাক্টর, হেলপার ও সুপারভাইজাররাও নেশাগ্রস্ত থাকেন। সিটি সার্ভিসের ক্ষেত্রে এ হার ৪৫.৯ এবং আন্তঃজেলার ক্ষেত্রে ১৯.২ শতাংশ। 

[৯] টিআইবি বলছে, নির্দেশনার যথাযথ প্রয়োগের অভাবে চলন্ত বাসেও চালকরা ফোন ব্যবহার করেন। এর ফলে অনেকসময় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। 

[১০] সংস্থাটির দাবি, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে বিআরটিএ’র প্রকাশিত তথ্যের গড়মিল হয়। 

[১১] বিআরটিএ’র তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৫ হাজার ২৪ জন। অন্যদিকে যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্যানুযায়ী এ সংখ্যা ৭ হাজার ৯০২ জন।

[১২] মঙ্গলবার (০৫ মার্চ) সকালে ধানমন্ডির টিআইবি কার্যালয়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন বাস পরিবহন ব্যবসায় শুদ্ধাচার শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

[১৩] টিআইবির গবেষক মুহা. নূরুজ্জামান ফারহাদ, ফারহানা রহমান ও মোহাম্মদ নূরে আলম প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।

[১৪] গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশে ব্যক্তিমালিকানাধীন বাস ও মিনিবাস থেকে বছরে ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা চাঁদা আদায় হয়। আর এই চাঁদার ভাগ পায় দলীয় পরিচয়ধারী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী, ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা-কর্মচারী, মালিক-শ্রমিক সংগঠন ও পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা।

[১৫] সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাস্তবে এর চেয়ে বহুগুণ বেশি চাঁদাবাজি হয়। এই চাঁদার ভাগ নানা পর্যায়ে যায়। যেহেতু খাতটি রাজনীতিবিদদের নিয়ন্ত্রণে, সেহেতু চাঁদার নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে।

[১৬] তিনি বলেন, এ খাতটি আপাদমস্তক দুর্নীতিতে জর্জরিত; বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এই খাত জিম্মি হয়ে আছে। ফলে যাত্রীরা প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না। 

[১৭] গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশের বৃহৎ বাস কোম্পানির প্রায় ৯২ শতাংশ পরিচালনার সঙ্গে রাজনীতিবিদেরা সম্পৃক্ত। এর মধ্যে ৮০ শতাংশই ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত। সম্পাদনা: সমর চক্রবর্তী